বাংলাদেশ কারও সঙ্গে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ করতে যাবে না। তবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি থাকতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য সশস্ত্র বাহিনীকে দেশ রক্ষার প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময় স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, তিনি সেই বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন। বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সহায়তায় দেশকে যেমন গড়ে তুলেছিলেন তিনি, সেই সাথে সশস্ত্র বাহিনীকেও গড়ে তুলেছিলেন। যারা একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, তারা যেন সুপ্রশিক্ষিত ও উপযুক্ত হয় সে পদক্ষেপটাও তিনি নিয়েছিলেন। আমরা তারই পদাঙ্ক অনুসারণ করে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে এবং সেভাবে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, যে কোনোভাবে দেশকে রক্ষা করা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে করতে যাবো না, কিন্তু আক্রান্ত হলে যেন নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি, সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সেভাবেই লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সরকারে আসার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে আমরা গড়ে তুলছি সেভাবেই। যাতে সশস্ত্র বাহিনী উৎকর্ষ অর্জন করতে পারে, সেভাবে কাজ করছি।
যুদ্ধ না করলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনোভাবে দেশকে রক্ষা করা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে করতে যাবো না, কিন্তু আক্রান্ত হলে যেন নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি, সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সেভাবেই লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সরকারে আসার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে আমরা গড়ে তুলছি সেভাবেই। যাতে সশস্ত্র বাহিনী উৎকর্ষতা অর্জন করতে পারে, সেভাবে কাজ করছি। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা দেশকে এগিয়ে নিতে পারেনি, বরং ক্যু হয়েছে। বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। দেশ যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছিল। এসএসএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যারা আমার নিরাপত্তায় থাকে, তাদের জন্য চিন্তিত থাকি আমি নিজেও। কারণ আমার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি দোয়া করি, যারা আমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত, আল্লাহ সবাইকে যেন সুরক্ষিত রাখেন।
জনগণই আমার শক্তি : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি, জনগণই আমার শক্তি। কাজেই এসএসএফের নিরাপত্তার কড়াকড়িতে যেন আবার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না যাই। কারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আর গুলি করা লাগবে না, এমনিতেই শেষ হয়ে যাবো। আমি জানি, এ কাজটা খুবই কঠিন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমার প্রচেষ্টা ছিল দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আবার বিরোধী দলে থেকেও দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তারও পরিকল্পনা করেছি। তবে ২০০৯ থেকে টানা ক্ষমতায় আছি বলেই, দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান করতে পেরেছি। স্থায়ী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। বাংলাদেশ আজকে যে পরিবর্তন হয়েছে, সে ধারা অব্যাহত রেখেই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে দেশে খাদ্যদ্রব্যের উর্ধ্বগতি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে দেশে খাদ্যদ্রব্যের উর্ধ্বগতি এবং প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। তবে যতক্ষণ আমার নিঃশ্বাস আছে, লক্ষ্য একটাই মানুষের জীবন উন্নত করা। এসএসএফের সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যারা আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যারা আমার নিরাপত্তায় থাকে, তাদের জন্য চিন্তিত থাকি আমি নিজেও। কারণ আমার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি দোয়া করি, যারা আমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আল্লাহ সবাইকে যেন সুরক্ষিত রাখেন।
টানা ক্ষমতায় আছি বলেই দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার প্রচেষ্টা ছিল দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আবার বিরোধী দলে থেকেও দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তারও পরিকল্পনা করেছেন। তবে ২০০৯ থেকে টানা ক্ষমতায় আছেন বলেই, দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান করতে পেরেছেন। স্থায়ী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পেরেছেন।
স্কুলজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শেখ হাসিনা : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, স্কুলজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, কলেজে ওঠার পর ভাইস প্রেসিডেন্টও নির্বাচিত হয়েছিলাম। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতিটি আন্দোলন এবং সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলাম। তবে এত বড় গুরুদায়িত্ব নিতে হবে, সেটা কখনও চিন্তাতেও আসেনি। আর সে ধরনের কোনো আকাক্সক্ষাও ছিল না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাবা (বঙ্গবন্ধু) রাজনীতি করতেন, মা তার পাশে সব সময় ছিলেন আর আমরাও সেভাবে কাজ করে গেছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ পরবাস জীবন পার করে ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসি, তখন দেশ ঘুরে যে দুরবস্থা দেখেছিলাম, সেটা সহ্য করার মতো ছিল না। প্রতিবছর দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত, মানুষের গায়ে কাপড় ছিল না, বিদেশ থেকে পুরানো কাপড় এনে পরানো হতো। একবেলা খাবার জুটত না তাদের। আর রোগের চিকিৎসা ও শিক্ষা সে তো ছিল সুদূর পরাহত। এদেশটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, এই সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়া এটাই ছিল তার (বঙ্গবন্ধু) একমাত্র লক্ষ্য। মানুষ যখন উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ঠিক তখনই আসে ১৫ আগস্টের আঘাত। ছোট্ট শেখ রাসেলের স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। তাকেও হত্যা করা হয়। কখনও চিন্তাতেও আসেনি আওয়ামী লীগের সভাপতির মতো গুরু-দায়িত্ব নেয়ার। তবে নিতে হয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে এখন আর কেউ করুণা করে না, সবাই মর্যাদা দেয়। আমরা দেশে-বিদেশে যে মর্যাদা পেয়েছি, তা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমার জীবন যে কোনো সময়ই চলে যেতে পারে। কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি। সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

এসএসএফের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
যুদ্ধ না করলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি থাকতে হবে
- আপলোড সময় : ২৬-০৬-২০২৪ ১০:৩৫:৩২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৬-২০২৪ ১০:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ